কাজী মীরু, কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইনের বিরুদ্ধে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা থেকে অনৈতিক সুবিধা বা কাঙ্ক্ষিত তদবির হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী এই ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার মুন্সীরহাটের পশ্চিম বাসন্ডা-কাদঘর-শ্যামপুর সড়কে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। ওই মিছিলে ফরহাদ, জয়নাল ও আবদুল আজিজসহ স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করা হলেও, এই মিছিলের কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্পর্শকাতর এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঝটিকা মিছিলের সুযোগ দিয়ে পুলিশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে এবং নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেও এ ধরনের প্রচারণার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এর আগে প্রচার করা হয়েছিল যে, প্রবাসী যুবলীগ নেতা আরশ মজুমদারের কাছ থেকে অর্থ লেনদেন করে পুলিশ এই মিছিলের সুযোগ করে দিয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আরশ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। এছাড়া অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা কোনো লিখিত প্রমাণ কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এমনকি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকেও এই অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চৌদ্দগ্রাম থানার ওসির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরেই একটি বিশেষ মহল এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, একটি রাজনৈতিক দলের এক সক্রিয় নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের সাথে একটি মহলের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক সক্রিয় কর্মীর তথ্যমতে, পুরনো ভিডিও কেটেছেঁটে নতুনভাবে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। যেসব আইডি থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাদের ব্যবহারকারীরাও দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধী চক্রের সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে এলাকায় থাকতেও ভয় পাচ্ছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, “চৌদ্দগ্রামে এরকম কোনো মিছিল হয়েছে কি না, এমন কোনো ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষীর ভিডিও বক্তব্য আমাকে পাঠান।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রবাসী যুবলীগ নেতা আরশ মজুমদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।